• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

রহস্যময় ডুবন্ত গিরিখাত ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’

রহস্যময় ডুবন্ত গিরিখাত ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’

ছবি- সংগৃহিত

ফিচার ডেস্ক

বাংলাদেশের মেরিন সংরক্ষিত বিখ্যাত একটি এলাকা ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’। এটি বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত একটি সংরক্ষিত এলাকা। ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়। বলা যায়, এই জায়গাটি সমুদ্রে বাংলাদেশের অভয়াশ্রম।

কোথায় সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড

গবেষকরা বলছেন, এটি সমুদ্রের তলদেশে একটি গভীর খাদ। বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত এই খাতটি ১৪ কিলোমিটার পর্যন্ত গভীর। সুন্দরবনের দুবলার চর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের তলদেশে এই খাদটি রয়েছে। সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের আয়তন প্রায় ১৩৪০ মিটার। এর গড় গভীরতা ১২০০ মিটারের বেশি। গবেষকরা বলছেন, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড মূলত বঙ্গীয় উপদ্বীপের ডুবন্ত অংশ বা ডুবন্ত গিরিখাত।

যেভাবে এলো ডুবন্ত গিরিখাত

গবেষণায় দেখা গেছে, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বিধৌত বঙ্গীয় ব-দ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত বঙ্গোপসাগরের ভেতরে গভীর খাদের মত একটি জায়গা পাওয়া যায়। এটি গঙ্গা খাদ নামেও পরিচিত। এই ডুবন্ত গিরিখাতে বিভিন্ন প্রজাতির ডলফিন, তিমি ও হাঙ্গরের বসবাস। এ ছাড়া রয়েছে সমূদ্রতলের নান্দনিক বিচিত্রময় জগৎ ও প্রাণীকূলের সমাহার। এটি বিশে^র বিখ্যাত ১১টি ডুবন্ত গিরিখাতের একটি।

কি আছে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে

ডুবন্ত এই গিরিখাতে বিভিন্ন প্রজাতির তিমি, সামুদ্রিক কচ্ছপ, মাছ রয়েছে। গবেষণার তথ্য অন্যুায়ী, এখানে প্রধানত বিভিন্ন প্রজাতির তিমি, ব্রাইডস তিমি, স্পিনার ডলফিন, ইন্দো-প্যাসিফিক বটলনোজ ডলফিন, ইন্দো-প্যাসিফিক হাম্পব্যাক ডলফিন, প্যানট্রপিকাল স্পটড ডলফিন, ইরাওয়াড্ডি ডলফিন, ইন্দো-প্যাসিফিক ফিনলেস পোরপোইস এবং প্রজাতির মধ্যে রয়েছে। এ অঞ্চলে কম-ডোলফিনস, ফ্রেক্স-ফ্রেসেডস এবং রোপস দেখতে পাওয়া যায়। কিছু প্রজাতি জিনগতভাবে অনন্য এবং বিপন্ন প্রজাতির মধ্যে আক্রমণকারী তিমিও রয়েছে।

এ ছাড়া এই এলাকায় তিমি হাঙর, হ্যামারহেড হাঙর, টুনাস, গ্রুপার, হকসবিল কচ্ছপ, অলিভ রিডলি কচ্ছপ, মাস্কড বুবিস, গ্রেট ব্ল্যাক-ব্যাকড গল, ক্রেস্টেড টার্নস, সাঁতার কাটা কাঁকড়া দেখা যায়।

০৫ জুন ২০২৪, ০৯:০১এএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।