পৃথিবীর যে গ্রামে নিষিদ্ধ ‘পুরুষ’
ছবি- সংগৃহিত
অদ্ভুত সব ঘটনার জন্য পৃথিবী বিস্ময়কর। বিশ্বের নানা প্রান্তে প্রতিনিয়ত নানা অদ্ভুত ঘটনা ঘটে থাকে। আমাদের সামাজিক জীবনে গ্রামে নারী-পুরুষ একসঙ্গে বসবাস করেন। তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় রয়েছে এমন একটি গ্রাম, যেখানে ‘পুরুষ’ নেই। ওই গ্রামে পুরুষ মানুষের বসবাস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সেখানে কেবলই নারীদের বসবাস।
আজব সেই গ্রামের পরিচিতি
গ্রামটির নাম উমোজা। কেনিয়ার একটি গ্রাম। এখানে ছেলে শিশু জন্ম নিলেও থাকতে পারে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত। ১৮ বছরের পর কোনো পুরুষ ওই গ্রামে বসবাস করতে পারেন না। এমনকি ওই গ্রামে পুরুষদের রাত্রিযাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
উমোজা গ্রামের এমন বিচিত্র জীবনযাত্রা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বহু পর্যটক গ্রামটিকে দেখতে আসেন। এখানে বসবাসকারী নারীরা বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী গহনা, পোশাক ও তৈজসপত্র বানিয়ে তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তবে উমোজা গ্রামের নারীদের প্রধান পেশা কৃষি কাজ। চাষাবাদের ওপর নির্ভরশীল গ্রামটির প্রায় ৭০ শতাংশ নারী।
উমোজা গ্রামে কেন পুরুষ নেই
কথিত আছে, প্রায় ৩০ বছর আগে সাম্বুরু সম্প্রদায়ের কয়েকজন নারী এই গ্রামের গোড়াপত্তন করেন। সমাজ ও পরিবার থেকে বিতাড়িত হওয়া নিপীড়িত নারীদের নিয়ে মূলত এই উমোজা গ্রামটি গড়ে তোলা হয়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রথা ভেঙে এ গ্রাম বর্তমানে বিশ্বে নারীশক্তির অনন্য দৃষ্টান্ত। এই গ্রামের অধিকাংশ নারীই অতিত জীবনে নির্যাতিত ও নিপীড়িত।
উমোজা গ্রাম ও কিছু কথা
→ কেনিয়ার ভাষা ‘সোয়াহিলি’ ও ইংরেজি। সোয়াহিলি ভাষায় উমোজা মানে ঐক্য। ৩০ বছর ধরে নারীদের দ্বারাই পরিচালিত হচ্ছে এই গ্রাম।
→ গ্রামটি প্রতিষ্ঠা করার কথা যে মহিলা ভেবেছিলেন, তিনি হলেন রেবেকা লোলোসোলি। স্বামী ও বিভিন্ন পুরুষের কাছে নির্যাতিত হওয়ার পর তিনি এই গ্রামটি গড়ে তোলেন।
→ প্রতি বছর নিয়ম করে এই গ্রাম পরিচালনার দায়িত্ব বদল হয়। ২ জন প্রতিনিধি প্রতি বছর গ্রাম পরিচালনা দায়িত্ব পান।
→ কেনিয়ার ঐতিহ্যবাহী নাচ ও গানে অতিথিদের বরণ করে নেয় উমোজা’র সংগ্রামী নারীরা। তাদের রঙিন ও ঝলমলে পোশাক আর গয়নায় মুগ্ধ হতে হয় প্রথম দেখাতেই। সেই মুগ্ধতাকে পুঁজি করেই চলছে উমোজা’র নারীদের বেঁচে থাকা।
→ উমোজার জীবনধারা, সেখানে নারীদের হাতেই তাদের সন্তানদের জন্য প্রতিষ্ঠিত স্কুল, ইউএসএইডের সাহায্যে নির্মিত উমোজা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আর জাদুঘর সবকিছুতেই নিখুঁত বর্ণনা পাওয়া যাবে উমোজা’র আজকের অবস্থানে উঠে আসার।
→ ২০১৫ সালে কেনিয়ায় এসেছিলেন বারাক ওবামা। উমোজার এই গ্রামে ঘুরে আপ্লুত হয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ‘বিশ্ব জুড়েই মহিলাদের দমিয়ে রাখার একটি রীতি রয়েছে। মহিলাদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক মনে করা হয়। এ সমস্ত কু-রীতিনীতি বদলানোর প্রয়োজন। অঙ্গহানি, বালিকা বিবাহের মতো প্রথাগুলো অনেক পুরনো। এই শতাব্দীতে এগুলোর কোনও জায়গা থাকা উচিত নয়।’
→ সবকিছুর পর পুরুষরাই তাদের সবচেয়ে বড় বাধা বলে মনে করেন উমোজার নারীরা। আর কোনোকিছুকে তোয়াক্কা না করে নিজেদের সামর্থ্য দিয়েই আয় করে নিচ্ছেন জীবনযাপনের সবকিছু।