বাস্তব এক টারজানের সন্ধান!
৯০ দশকের টিভি দর্শকদের কাছে অ্যাডভেঞ্চার চরিত্রগুলোর মধ্যে টারজান অন্যতম। তবে এবার বাস্তব এক টারজানের দেখা পাওয়া গেছে। হংকংয়ের বাসিন্দা এই টারজান। তার নাম জেসন। হংকংয়ের সমুদ্র উপকূলবর্তী জঙ্গলে তিনি বসবাস করেন। লম্বা চুলের আধুনিক পোশাকহীন এক বাস্তব টারজানের জীবনের গল্প টিভি পর্দার গল্পের চেয়েও করুন।
টারজান ‘জেসন’ এর শৈশব
জেসন ফিলিপাইনের একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মের পরই তার মা মারা যান। মাতৃহারা জেসন একটি চার্চে লালিত পালিত হন। এরপর কিশোর বয়সে তিনি হংকংয়ে পাড়ি জমান। সমুদ্র পাড়ি দিয়ে হংকংয়ের একটি জঙ্গলের ধারে তিনি বসবাস শুরু করেন।
জেসনকে টারজান কেন বলা হয়
চলচ্চিত্রে টারজানের যে প্রাকৃতিক জীবনাচার, বাস্তব জেসনের জীবনও তাই। জেসন যে বাড়িতে বসবাস করেন, সেটি কাঠ, ঘাস, লতাপাতা ও পুরানো প্লাস্টিক বোতল দিয়ে তৈরি। জেসনের দাবি, বাড়ি তৈরিতে তিনি কোনো একটি গাছও কাটেননি। সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে আসা কাঠের টুকরো, প্লাস্টিক ও জঙ্গলে পড়ে থাকা শুকনো কাঠ দিয়ে তিনি বসবাসের জায়গা তৈরি করেছেন।
বাস্তবের টারজান জেসন কোনো প্রক্রিয়াজাত খাবার খান না। জঙ্গল থেকে প্রাকৃতিক ফল-ফলাদি তিনি খেয়ে থাকেন। পানির চাহিদা পূরণ করেন বৃষ্টি থেকে। এছাড়া জঙ্গলের ঝর্ণার পানি তার অন্যতম ভরসা।
জেসন গত ২৪ বছর চুল কাটেন না। লম্বা জটপাকানো চুল নিয়ে গর্বিত জেসন। তার পরনে কোনো আধুনিক বা চমকপ্রদ পোশাক থাকে না। গাছের পাতা, বাকল, লতাপাতা না পরলেও তিনি টারজানের আদলে নিজের মতো করে পোশাক বানিয়ে নেন। এই পোশাকেই তিনি আরাম পান।
টারজানের বাড়ি তৈরির উপকরণ
টারজান জেসনের বাড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে জঙ্গলের পড়ে থাকা কাঠ।
সমুদ্রে ভেসে আসা কাঠ ও প্লাস্টিক সামগ্রী।
পাথর ও কাদামাটি।
জেসনের বাড়ির উঠানে তিনি নিজেই বানিয়েছেন কৃত্রিম সুইমিং পুল।
আগুনে পুড়িয়ে বা সেদ্ধ করে খাবার তৈরি করেন নিজের জন্য।
জেসন কেন টারজান হলেন
⇒ জেসনের কথা, আধুনিক জীবনে তিনি চাকরি করতেন। শহরে থাকতেন। কিন্তু শান্তি পেতেন না।
⇒ তাই, তিনি জঙ্গলে এসে বসবাস শুরু করেন।
⇒ সমুদ্রে ইচ্ছেমতো সাঁতার কাটেন।
⇒ পাহাড়ে ক্লাইম্বিং করেন এবং জঙ্গলে নতুন কিছু আবিষ্কারের চেষ্টা করে চলেছেন।
⇒ জেসন মনে করেন, তার লম্বা ঝাঁকড়া চুল তার মানসিক ও শারীরিক শক্তির একমাত্র উৎস।