বিশ্বের লম্বা নারী ‘রুমেসা’ রহস্য!
ছবি- সংগৃহিত
তুরস্কের একটি ছোট্ট গ্রাম। যেখানে বসবাস করেন রুমেসা গেলজি। জন্মের পরই তার শরীরে বাসা বাঁধে দুরারোগ্য এক ব্যাধি। যে রোগের কারণে তার শরীর দ্রুত লম্বা হতে থাকে। মাত্র ৭ বছর বয়সেই নিজের বাবা ও মায়ের উচ্চতাকে ছাড়িয়ে যান রুমেসা। বর্তমানে তার উচ্চতা ২.১৫ মিটার। অস্বাভাবিক উচ্চতার কারণে স্কুলেও যেতে পারেননি তিনি। তবে বাড়িতে বসেই স্কুলের সকল শিক্ষা তিনি গ্রহণ করেছেন। গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে লিখিয়েছেন নিজের নাম।
রুমেসা কেন এত লম্বা
জন্মের পর থেকেই রুমেসার শারীরিক বৈশিষ্ট্য স্বাভাবিক ছিল না। রুমেসা যখন ছোট, তখন তাকে চিকিৎসকের কাছে নেয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, রুমেসা গেলজি ওয়েভার সিনড্রোমে আক্রান্ত।
চিকিৎসকরা বলছেন, ওয়েভার সিনড্রোম একটি বিস্ময়কর রোগ। এটি শরীরের হাড়ের বৃদ্ধি ঘটায়। ফলে মানুষ দ্রুত বেড়ে ওঠে।
রুমেসার চমকপ্রদ তথ্য
→ রুমেসা যে রোগে আক্রান্ত, তুরস্কে এই রোগী সে ছাড়া আর কেউ নেই।
→ বিশ্বে ওয়েভার সিনড্রোমে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বড় জোর ৫০ জন।
→ রুমেসা যে গাড়িতে চড়েন, তাতে তিনি বসতে পারেন না। কাস্টমাইজ করে বানানো গাড়িতে শুয়ে শুয়ে তিনি ভ্রমণ করেন।
→ অবাক ব্যাপার হলো, রুমেসা ২৫ বছর বয়সে মাত্র একবার ২০২২ সালে বিমান ভ্রমণ করেন।
→ স্বাভাবিক মানুষের মতো খেলাধুলা করতে না পারলেও রুমেসা একজন সফল ওয়েব ডেভেলপার।
→ ফ্রিল্যান্সিং করে ঘরে বসেই তিনি লাখ ডলার আয় করেন।
→ বিশ্বের বড় আঙুল, বড় হাতের তালু সহ মোট ৫টি গিনেজ রেকর্ড রুমেসার দখলে।

শারীরিক চ্যালেঞ্জ ও রুমেসার জীবন
— অতিরিক্ত উচ্চতার কারণে রুমেসার দেহের মাসল খুবই দুর্বল। এ কারণে তার মেরুদণ্ড ও হাড় শক্তিশালী না।
— রুমেসা একটানা ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না। তিনি নিজে হাঁটতে বা চলাফেরা করতে পারেন না।
— হুইল চেয়ারে বসে তিনি তার সকল কাজকর্ম করেন। তবে জীবন কষ্টকর হলেও রুমেসা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম। দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত মানুষগুলো রুমেসার টিকে থাকার লড়াই দেখে অনুপ্রাণিত।
রুমেসার বার্তা:
দয়াবান হোন, মানুষের পাশে থাকুন। নিজেকে কখনোই পৃথিবীর জন্য ভারী মনে করবেন না। নিজেকে নিজের মতো করে তৈরি করুন। মানুষের কাজের প্রশংসা করুন, মানুষকে ভালোবাসুন।