গুগলকে হারিয়ে দিল জাপানি তরুণের দোভাষী ‘ট্রান্সলেটর’
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে গুগলকে চ্যালেঞ্জ করা দুঃসাহস বটে। কিন্তু, পৃথিবীতে কোনো কিছুই একমাত্র নয়। বিশেষ করে জাপানিদের কাছে অসাধ্য বলে কিছু আছে কিনা জানা নেই। গুগলের রয়েছে চমকপ্রদ নানান আবিষ্কার। মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় নানান তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য বাজারজাত করছে গুগল। মার্কিন প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানটিকে টেক্কা দেয়া কঠিন। তবে গুগলকে টেক্কা দিয়ে ছক্কা মেরেছেন জাপানি প্রযুক্তি গবেষক তাকুরো ইয়োশিদা।
তাকুরো ইয়োশিদা’র উদ্ভাবন
গুগল অনেক আগেই ট্রান্সলেটর বা অনুবাদযন্ত্র তৈরি করেছে। তারা অনলাইন মাধ্যমে যে ট্রান্সলেটর চালু রেখেছে, তা বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু, গুগলের এই ট্রান্সলেটর খাতেই আঘাত হেনেছেন তাকুরো। তিনি বানিয়েছেন ছোট্ট ট্রান্সলেটর ডিভাইস। যা দিয়ে মুহূর্তেই জাপানি, চীনা ও ইংরেজি ভাষা অনুবাদ করা সম্ভব।
কি আছে তাকুরোর ট্রান্সলেটর যন্ত্রে
→ তাকুরো গুগলকে পেছনের ফেলার মিশন নিয়ে ২০১৩ সালে লগবার বা Logbar নামে প্রতিষ্ঠান চালু করেন।
→ প্রতিষ্ঠানটি গুগলের তৈরি চশমা, হাতঘড়ি ও অন্যান্য ডিভাইসের উন্নত বিকল্প তৈরির চেষ্টা করে। লগবার ও তাকুরো ইয়োশিদা বারবার ব্যর্থ হন।
→ অবশেষে ২০১৭ সালে তৈরি করে ইলি বা ili নামক ছোট্ট ডিভাইস। এই ডিভাইসটি গুগল ট্রান্সলেটরকে পেছনে ফেলে দেয়।
→ তাকুরোর তৈরি ছোট্ট ডিভাইসটি ভ্রমণকারীদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।
→ চীনা জাপানি ও ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করতে ডিভাইসটি ন্যান্যো সেকেন্ড সময় নেয়।
‘ইলি’ কেন এত জনপ্রিয়
⇒ এই ডিভাইসটি তৈরি করতে দীর্ঘ ৬ বছর সময় নেন তাকুরো ইয়োশিদা
⇒ ‘ইলি’ নামক ডিভাইসটি ব্যবহারে ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন পড়ে না
⇒ এটি পোর্টেবল, সহজেই বহনযোগ্য
⇒ ডিভাইসটি দেখতে ছোট্ট ইন্টারনেট মডেমের মতো
‘ইলি’ নিয়ে তাকুরোর পরিকল্পনা
তাকুরো ইয়োশিদা নাস ডেইলিকে বলেছেন, ডিভাইসটির বাজারজাত করার লক্ষ্য রয়েছে তার। স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ, রোমান, টার্কি, ভারতীয় ইংরেজি উচ্চারণ, আরবি ভাষা সংযুক্ত করা হবে। তারপর এটি এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে ছাড়া হবে।
ইলি ও তাকুরো ইয়োশিদির লক্ষ্য, জাপানি স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেমের নেতৃত্ব দেওয়া। উদ্ভাবনী পণ্য তৈরি করে জনসাধারণের কাছে পৌঁছাতে চায় মি. তাকুরো। যদিও ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে টোকিওতে ‘ইলি’ প্রথম লঞ্চ করা হয়।