• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়বে, যদি প্রফিট ফেরত নেওয়ার পথ সহজ হয় : রাজু মহাজন

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়বে, যদি প্রফিট ফেরত নেওয়ার পথ সহজ হয় : রাজু মহাজন

তাহাজীব হাসান

বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে—বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, স্টার্টআপ এবং অবকাঠামো খাতে। তবে প্রবাসী উদ্যোক্তাদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হলো বিনিয়োগের পর লাভের অর্থ (প্রফিট) বিদেশে ফেরত নেওয়ার জটিল প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ কয়েকগুণ বাড়বে বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা রাজু মহাজন। বুধবার একান্ত সাক্ষতকারে রাজু মহাজন সাপ্তাহিক অভিভাবক এর কাছে এসব কথা বলেন। সাক্ষাতকার নেন তাহাজীব হাসান। 

রাজু মহাজন বলেন,

“বাংলাদেশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বিজনেস ফ্রেন্ডলি। আমি সম্প্রতি আমেরিকায় আশিক চৌধুরীর সঙ্গে মিটিং করেছি এবং বাংলাদেশের বিচার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য ডাটা সেন্টার প্রকল্প নিয়ে কথা চলছে। আমি সরাসরি উদ্যোক্তা নই, বরং যারা বিদেশে আছেন—বিশেষ করে আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে—তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সংযোগ তৈরি করতে কাজ করছি।”

রাজু মহাজন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে বহু বাংলাদেশি মালিকানাধীন স্টার্টআপ রয়েছে, যারা বাংলাদেশের বাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী। কিন্তু জটিল আর্থিক নিয়মকানুন অনেক সময় তাদের নিরুৎসাহিত করে।

“বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা সম্ভব, কিন্তু লাভের অর্থ ফেরত নেওয়া প্রায় অসম্ভব। ট্যাক্স কাঠামো এমনভাবে সাজানো যে, বিনিয়োগকারীরা বাস্তবে সেই অর্থ ফেরত পেতে পারেন না। এটা একধরনের ট্র্যাপ তৈরি করে—যেন টাকা ঢোকানো যাবে, কিন্তু বের করা যাবে না,” বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন,

“আমরা চাই সরকার প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের প্রতি আরও আস্থা রাখুক। প্রফিট ফেরত নেওয়ার নীতিমালা সহজ করা গেলে যুক্তরাষ্ট্রের শত শত বাংলাদেশি উদ্যোক্তা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হবেন।”


🎯 নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

রাজু মহাজন জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে।

“এখন বাংলাদেশে যারা কাজ করছেন, তারা অনেক বেশি উন্মুক্ত ও সহযোগিতাপ্রবণ। আমি মনে করি—আগামী পাঁচ বছরে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগ বাংলাদেশের উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে,” তিনি বলেন।


🎓 বর্ণিল ব্যক্তিজীবন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ বিভাগ থেকে স্নাতক রাজু মহাজন দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাংবাদিকতা করেছেন—সাপ্তাহিক ২০০০, আমার দেশ এবং রেডিও ফূর্তিতে দীর্ঘ সময় কাজ করেন।

ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে মিডিয়া স্টাডিজে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের সময় তার গবেষণার বিষয় ছিল—বাংলাদেশের জনপ্রিয় লোকগাথা লালকমল-নীলকমল ও আমেরিকান কমিকস ব্যাটম্যান ও রবিন–এর মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ।

“আমি দেখাতে চেয়েছি, সুপারহিরো কেবল আমেরিকান ধারণা নয়; বরং তারা বিশ্বজনীন—ইউনিভার্সাল ক্যারেক্টার,” বলেন রাজু মহাজন।

 

০৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:৩৪এএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।