• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

হাতিয়ায় ভোট দেওয়ার জেরে গৃহবধূকে ‘ধর্ষণ’: কঠোর হুঁশিয়ারি জামায়াত আমীরের

হাতিয়ায় ভোট দেওয়ার জেরে গৃহবধূকে ‘ধর্ষণ’: কঠোর হুঁশিয়ারি জামায়াত আমীরের

নিজস্ব প্রতিবেদক

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ভোট দেওয়ার জেরে তিন সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও স্তম্ভিত হওয়ার কথা প্রকাশ করেছেন জামায়াতের আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান। এই ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

ভুক্তভোগী নারী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP)-কে ভোট দেওয়ার অপরাধে একদল দুর্বৃত্ত ওই নারীর ঘরে ঢুকে তাঁর স্বামীকে বেঁধে ফেলে এবং তাঁকে পাশবিক নির্যাতন চালায়। বর্তমানে ওই নারী নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ডাঃ শফিকুর রহমান তাঁর স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর পরিবারের সাথে ফোনে কথা বলেছেন এবং তাঁদের এই অসহনীয় যন্ত্রণায় তিনি গভীরভাবে ব্যথিত।
তিনি বলেন, "যা ঘটেছে তা রাজনীতি নয়, এটি চরম ঔদ্ধত্য এবং এখনই এর অবসান হতে হবে। বিশেষভাবে নারীদের নিরাপত্তা সবার আগে।"

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, এদেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার আছে এবং ভোট দেওয়ার কারণে কাউকে আঘাত করার অধিকার কারো নেই।

ঘটনায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয়ের দিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমীর জানান, তিনি আগামীকাল বিএনপি চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাৎ করবেন এবং এ বিষয়ে কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ জানাবেন। তিনি বলেন, "তাঁর (বিএনপি চেয়ারম্যান) দলের ভেতর থেকে এই ধরনের আচরণ দমনে আরও অনেক বেশি কঠোর হতে হবে। নেতৃত্ব মানেই হলো শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহিতা।

আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের দাবি
নির্বাচনী প্রচারণায় দেওয়া নিজের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতির কোনো স্থান নেই এবং আইনের শাসনের কোনো বিকল্প নেই। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দ্রুত, দৃঢ় এবং পক্ষপাতহীনভাবে এই ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এই স্ট্যাটাসটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। অনেকেই হ্যাশট্যাগ #JusticeForHatiya ব্যবহার করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫০এএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।